হার্ডওয়্যার কি, কত প্রকার - কম্পিউটার তৈরিতে কি কি হার্ডওয়্যার লাগে

কম্পিউটার শিক্ষা ফ্রি কোর্সের ৩য় ক্লাসে হার্ডওয়্যার কি বা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচিতি নিয়ে আলোচনা করব। অর্থাৎ কম্পিউটার কি কি পার্টস এর সমন্বয়ে বিল্ড আপ করা হয় সেই বিষয় গুলো তুলে ধরব।

হার্ডওয়্যার হচ্ছে কম্পিউটার তৈরির উপকরণ। হার্ডওয়্যার ব্যতীত কম্পিউটার বিল্ড করার প্রশ্ন আসে না। মানব শরীরে একটি অঙ্গ ছাড়া যেমন অচল তেমনি কম্পিউটারও হার্ডওয়্যার ছাড়া অচল। এই হার্ডওয়্যার বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেহেতু হার্ডওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার অচল তাই হার্ডওয়্যার এর গুরুত্ব কতটুকু, কত প্রকার ও কি কি এর সবকিছুই ব্যাখ্যা করব।

হার্ডওয়্যার কি, কত প্রকার - কম্পিউটার তৈরিতে কি কি হার্ডওয়্যার লাগে

কম্পিউটার তৈরির অংশ

একটি কম্পিউটার দুটি অংশকে কেন্দ্র করে রান করে। এর মধ্যে প্রথমটি হল হার্ডওয়্যার এবং দ্বিতীয়টি হল সফটওয়্যার। এই দুটির সমন্বয়ে কম্পিউটার কাজ করে থাকে। তাহলে চলুন এগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

সফটওয়্যারঃ সফটওয়্যার হচ্ছে কত গুলো প্রোগ্রাম বা কমান্ড এর সমষ্টি। যার মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারে সকল কাজ করে থাকি। সফটওয়্যার ব্যতীত কম্পিউটারে কাজ করার মতো কিছুই নেই। এতে স্পষ্টতা পায় যে কম্পিউটারে সফটওয়্যার এর গুরুত্ব কতটুকু। চেষ্টা করব সফটওয়্যার নিয়ে একটি প্রবন্ধ তৈরি করার।

হার্ডওয়্যার কি-কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কাকে বলে

কম্পিউটারের খণ্ডিত পার্টস সমূহকে হার্ডওয়্যার বলা হয়। যে গুলো একসাথে সেটআপ করলে একটি কম্পিউটার পরিপূর্ণতা পায় সেগুলোই হচ্ছে হার্ডওয়্যার। হার্ডওয়্যারের মাধ্যমেই কম্পিউটারের সফটওয়্যার গুলো কাজ করে থাকে। যদি উদাহরণ দেই তাহলে বলতে হবে স্পিকার, প্রিন্টার, রেম, মাদারবোর্ড হচ্ছে হার্ডওয়্যার বা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার।

হার্ডওয়্যার এর প্রকারভেদ

প্রথমেই জেনেছেন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার মাধ্যমে রান হয়। এর মধ্যে থেকে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এর ২টি প্রকার রয়েছে। যেমনঃ
  1. ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার 
  2. এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার

কম্পিউটারের ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার

কম্পিউটারের অভ্যন্তরীন যন্ত্রাংশ বা পার্টস সমূহকে ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার বলা হয়। ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার গুলো কম্পিউটার বিল্ড করার সময় সেটআপ করা হয়। ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার গুলো কম্পিউটার বিল্ড করার সময় একটি কভার এর মধ্যে ইনসার্ট করে থাকে। নিচে ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার গুলো উল্লেখ করা হল।
  • মাদারবোর্ড
  • র‍্যাম 
  • রম (হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ)
  • পাওয়ার সাপ্লাই
  • সিপিউ (প্রসেসর)
  • গ্রাফিক্স কার্ড
  • এসএসডি
  • সিডি
  • মডেম
  • কুলিং ফ্যান
মাদারবোর্ডঃ মাদারবোর্ড হচ্ছে কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড। সকল হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ গুলো মাদারবোর্ডের সাথে কানেক্ট থাকে। মাদারবোর্ড সকল হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ গুলোকে বিদ্যুৎ সাপ্লাই করে থাকে। যার ফলে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার একে অপরের সাথে কানেক্ট থাকে।

র‍্যামঃ র‍্যাম হচ্ছে কম্পিউটারের অস্থায়ী মেমোরি। র‍্যাম এর পূর্ণরূপ হচ্ছে র‍্যানডম অ্যাক্সেস মেমোরি। র‍্যাম অস্থায়ী মেমোরি হওয়ায় কম্পিউটারে বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে র‍্যাম এর সকল ডাটা মুছে যায়। র‍্যাম এর কাজ হচ্ছে সকল ডেটা সংগ্রহ এবং সেগুলো রিয়েল টাইম সিপিউ এর মাধ্যমে ব্যবহার করা।

রমঃ কম্পিউটারে ডাটা সংরক্ষণ তথা স্টোরেজ হিসেবে রম ব্যবহার করা হয়। রম এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে রিড অনলি মেমোরি। অর্থাৎ রম হচ্ছে কম্পিউটারের একটি প্রাইমারি মেমোরি যেখানে সকল তথ্য বা ইনফরমেশন সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

পাওয়ার সাপ্লাইঃ কম্পিউটারে বিদ্যুৎ সাপ্লাই করার জন্য ব্যবহার করা হয় পাওয়ার সাপ্লাই। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার গুলো একটি নিদ্রিস্ট ভোল্টেজের গ্রহন করার ক্ষমতা রাখে। অতিরিক্ত ভোল্ট পেলে তাতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক মাত্রাই বিদ্যুৎ প্রদান করার জন্য পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করা হয়।

সিপিউঃ সিপিউ হচ্ছে কম্পিউটার প্রসেসিং এর প্রধান অংশ। সিপিউ এর মাধ্যমে কম্পিউটারে আসা সকল ইনপুট, প্রসেসিং এবং আউটপুট এর সকল কার্যক্রম করে থাকে। আমরা প্রসেসর বলে যে হার্ডওয়্যারকে জানি সেটাই হচ্ছে সিপিউ।

গ্রাফিক্স কার্ডঃ গ্রাফিক্স কার্ড কম্পিউটারে প্রদর্শিত ছবি, ভিডিওর একচুয়াল অর্থাৎ সঠিক কালার দিয়ে থাকে। সকল কম্পিউটার ব্যবহার কারীরা গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে না। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করে থাকে তাদেরকে সঠিক কালার পেতে গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে হয়। তাছাড়া যাদের ভিডিও দেখতে কিংবা কম্পিউটার গেইমের প্রতি আকর্ষণ বেশি তারাই এটা ব্যবহার করে।

এসএসডিঃ এসএসডি এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে সলিড স্টেট ড্রাইভ। রম এবং এসএসডি এর সম্পূর্ণ একই। তবে রম (হার্ড ডিস্ক) এর তুলনায় এসএসডি অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করে থাকে। তাছাড়া এসএসডি ফ্ল্যাশ মেমোরি ও বলা হয়।

সিডি ড্রাইভঃ সিডি ড্রাইভ এর কাজ হচ্ছে তথ্য সংরক্ষণ করা। এতে বিভিন্ন প্রকার ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সফটওয়্যার, শিক্ষনীয় কোন তথ্যের ফাইল, উইন্ডোজ ফাইল সংরক্ষণ করে রাখা যায়। 

মডেমঃ মডেম এর কাজ হচ্ছে এনালগ সিগনালকে ডিজিটাল এবং ডিজিটাল সিগনালকে এনালগ সিগনালে রূপান্তর করা। আমরা এটাই জানি যে, মডেম এর মধ্যে সিম ইনসার্ট করে কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাবহার করা। ঐ যে গ্রামীনফোনের মডেম এর কথা বলতেছি।  এটা ছাড়াও আরো অনেক মডেম রয়েছে। মডেম সম্পর্কে জানতে নিচের আরো পড়ুন অপশনটি দেখুন।

কুলিং ফ্যানঃ সিপিউ কে ঠান্ডা করার জন্য কুলিং ফ্যান ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারে ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার গুলোতে কুলিং ফ্যান এর মাধ্যমে বাতাস প্রবাহ হয়। অতিরিক্ত লোডের কারণে কম্পিউটারের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। মূলত সিপিউ এর তাপমাত্রা কমাতে কুলিং ফ্যানের ব্যবহার।

কম্পিউটারের এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার

এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার গুলো কম্পিউটারের বাহিরে ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার এর বিপরীত হচ্ছে এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার। তবে হার্ডওয়্যার ইন্টারনাল হোক কিংবা এক্সটারনাল সব কিন্তু মাদারবোর্ডের সাথে কানেক্ট করতে হয়। নিচে এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার গুলো তুলে ধরা হলঃ
  • কীবোর্ড
  • মাউস
  • মনিটর
  • স্পিকার
  • প্রিন্টার
কীবোর্ডঃ কীবোর্ড শব্দটা প্রায় সবার কাছে চিরচেনা। মোটামোটি ভাবে সকলেই কীবোর্ডের সাথে পরিচিত। হোক সেটা মোবাইলের ক্ষেত্রে কিংবা কম্পিউটার। কীবোর্ড ব্যাতীত কম্পিউতার ব্যবহার করা অচল বলতে গেলে। কোন কিছুই ইনপুট করা সম্ভব না, যদি কীবোর্ড না থাকে। সুতরাং বলা যায়, কীবোর্ড হচ্ছে কম্পিউটারে ইনপুট প্রদান করার মাধ্যম।

মাউসঃ মাউস শব্দটা শুনতে ইঁদুর ইঁদুর লাগলেও এটা কিন্তু সেটা না।  কম্পিউটারের ক্ষেত্রে মাউস এর কাজ হচ্ছে আপনার কথা শোনা। হা-হা-হা! একটু হাঁসতে মন চাইতেছে তাই হাসলাম। চাইলে আপনারাও হেঁসে নিতে পারেন। হ্যাঁ এটা সত্য যে, মাউস এর পরিচলনা সম্পূর্ণ আপনার নিজের হাতে। কম্পিউটারের সকল প্রোগ্রাম গুলো নিয়ন্ত্রন, নির্দেশনা মাউস এর মাধ্যমে করা হয়।

মনিটরঃ কম্পিউটারের আউটপুট দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় মনিটর। আমরা কম্পিউটারে যা কিছু করি সবগুলো কিন্তু দেখে দেখে করতে হয়। এখন আমরা সেগুলো কোথায় দেখি সেটা মনে হয় আর আমাকে বলতে হবে না। কারণ, জানি আপনারা চমৎকার চালাক! 

স্পিকারঃ কম্পিউটার সাউন্ড এর আউটপুট শোনার জন্য স্পিকার ব্যবহার করতে হয়। কম্পিউটারে গান শোনা, মুভি দেখা, ইসলামিক সঙ্গিত শোনতে প্রয়োজন স্পিকারের। কারণ স্পিকারের কাজ হচ্ছে সাউন্ড অর্থাৎ শব্দ আউটপুট দেওয়া।

প্রিন্টারঃ প্রিন্টার এর কাজ হচ্ছে প্রিন্ট করা। কম্পিউটারে তৈরি কোনো ডিজাইন, টেক্সট, ছবি, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি প্রিন্ট করার জন্য প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়।

সতরাং আমরা এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি যে, সকল প্রকার আউটপুট কাজের জন্য এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়।

হার্ডওয়্যার এর কাজ ও গুরুত্ব

উপরের আলোচনার মাধ্যমে হয়তো বুঝে গিয়েছেন হার্ডওয়্যার এর কাজ কি এবং হার্ডওয়্যার কম্পিউটার বিল্ড করতে হার্ডওয়্যার এর গুরুত্ব কতটুকু ? তারপরেও আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে তুলে ধরছি।
  • কম্পিউটার সিস্টেমে পাওয়ার সাপ্লাই
  • কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট করার ব্যবস্থা
  • কম্পিউটারের সকল আউটপুট দেখার ব্যবস্থা
  • কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা
  • কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রন এবং নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা
যদিও হার্ডওয়্যার সম্পর্কে আপনারা আরো অনেক কিছুই জেনেছেন। এখানে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় গুলোকে হার্ডওয়্যার এর কাজ হিসেবে বলা হয়েছে।

হার্ডওয়্যার আপগ্রেড বা পরিবর্তন

একটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর জন্য বেশি টেনশন করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনাকে সম্পূর্ণ কম্পিউটার পরিবর্তন করতে হবে না। যে হার্ডওয়্যার এ সমস্যা সেটা চাইলে আপনি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। 

তাছাড়া আপনার যদি মনে করেন যে, পূর্বে ১০ জিবি র‍্যাম এবং ৫০০ জিবি হার্ড ডিক্স ব্যবহার করতাম, তো এখন আমি এগুলো আপগ্রেড করতে চাই। ১০ জিবি এর পরিবর্তে ১৬ জিবি এবং ৫০০ জিবি এর পরিবর্তে ১০০০ জিবি ব্যবহার  করতে চাই! সেটাও পারবেন। 

আমাদের শেষ কথা

কম্পিউটার শিক্ষা ফ্রি কোর্সের ৩য় ক্লাসে হার্ডওয়্যার কি, কত প্রকার ও কি কি। মোট কথা হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত সকল বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। যদি আপনাদের কোন মতামত কিংবা প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
Next Post Previous Post