নেটওয়ার্ক কি ও কত প্রকার? কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি ও ব্যাবহার

আজকের প্রবন্ধে নেটওয়ার্ক কি? নেটওয়ার্ক কত প্রকার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর ব্যাবহার এবং নেটওয়ার্ক টপোলজি নিয়ে আলোচনা করব। যাতে আপনারা নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেতে পারেন।

নেটওয়ার্ক বিষয়টি আমাদের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সময়ের ২৪ ঘণ্টাই আমরা নেটওয়ার্কিং সিস্টেমকে ব্যাবহার করছি। দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ অব্ধি পর্যন্ত নেটওয়ার্কিং সিস্টেমকে ব্যাবহার করে যোগাযোগের মাধ্যমটি অনবরত চালিয়ে যাচ্ছি।

সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে যোগাযোগের মাধ্যমটি অতি সহজতর করে দিয়েছে এই নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। অথচ নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে প্রায় সবারই সবকিছুই অজানা। তাহলে চলুন নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেনে নেই।

নেটওয়ার্ক কি - নেটওয়ার্কের ধারণা

নেটওয়ার্ক হচ্ছে এক বা একাধিক ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ ব্যবস্থা। অর্থাৎ এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য স্থানান্তর করার জন্য যে সংযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হয় সেই সংযোগ ব্যবস্থাকে নেটওয়ার্ক বলা হয়। নেটওয়ার্ক সিস্টেমে কয়টি ডিভাইস যুক্ত করা যাবে, তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অসংখ্য অগণিত ডিভাইস নেটওয়ার্ক সিস্টেমে যুক্ত থাকতে পারে।

নেটওয়ার্ক কি ও কত প্রকার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি ও ব্যাবহার

তুমুল জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক হচ্ছে ইন্টারনেট। নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় সবচেয়ে বৃহত্তম নেটওয়ার্ক হিসেবে ইন্টারনেট সর্বপ্রথমে রয়েছে। যা আমরা সকলেই ব্যাবহার করি।

নেটওয়ার্ক ব্যাবহারের জন্য কিছু ডিভাইস রয়েছে। যে ডিভাইস গুলোতে নেটওয়ার্ক যুক্ত করে আমাদের কার্যক্রম গুলো করতে পারি। নিচে নেটওয়ার্ক ব্যাবহারের ডিভাইস গুলো দেওয়া হল:

  • কম্পিউটার/ ল্যাপটপ
  • স্মার্ট ফোন/ অ্যান্ড্রয়েড
  • প্রিন্টার মেশিন
  • ফ্যাক্স মেশিন

নেটওয়ার্ক ডিভাইস

কম্পিউটার/ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন/ অ্যান্ড্রয়েড, ফ্যাক্স মেশিন ইত্যাদি ডিভাইস সমূহ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ডিভাইস গুলোকে নেটওয়ার্ক ডিভাইস বলে।

নেটওয়ার্ক ডিভাইস ব্যতীত আমাদের ব্যবহৃত ডিভাইস (কম্পিউটার, স্মার্ট-ফোন) সমূহ দিয়ে নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হওয়া যায় না। নিচে নেটওয়ার্ক ডিভাইস সমূহ উল্লেখ করা হল:

  • মডেম
  • রিপিটার
  • হাব
  • সুইচ 
  • রাউটার
  • ব্রিজ 
  • গেটওয়ে

নেটওয়ার্ক কিভাবে তৈরি হয় - নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যম

একাধিক কম্পিউটার পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। নেটওয়ার্ক ৫টি মাধ্যমকে কেন্দ্র করে নেটওয়ার্কিং এর কাজ সম্প্রসার করে থাকে। 

৫টি উপাদান থেকে যদি কোন একটি ব্যতীত নেটওয়ার্ক স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে কাজ করবে না। নিচে নেটওয়ার্ক তৈরির ৫টি উপাদান সম্পর্কে আলোচনা করা হল:

  1. Sender
  2. Receiver
  3. Message 
  4. Protocol
  5. Transition media

Sender – নেটওয়ার্ক যেভাবে তৈরি হয়

ডাটা প্রদান করার ক্ষেত্রে সেন্ড (Sender) এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য ট্র্যান্সফার করতে নেটওয়ার্ক এর সাথে প্রথমেই যুক্ত হতে হয়। 

তারপর যে অপশনটি চলে আসে তা হচ্ছে সেন্ড (Sender)। কারণ সেন্ড (Sender) ব্যতীত ডাটা ট্র্যান্সফার করা কোন ভাবেই সম্ভব না। আপনার কথাই বলি, কোন কিছু লিখে যখন আপনার বন্ধুদের কাছে পাঠাতে চান তখন কি করেন? অবশ্যই সেন্ড বাটনে ক্লিক করেন।

তাই বলা যায়, Sender হচ্ছে একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা ট্র্যান্সফার করার মাধ্যম এবং নেটওয়ার্কিং তৈরির প্রথম উপকরণ।

Receiver - নেটওয়ার্ক যেভাবে তৈরি হয়

ডাটা গ্রহণ করার মাধ্যমকে Receiver বলা হয়। কোন ডিভাইস থেকে ডাটা ট্রান্সফার করার পর, যে ডিভাইসে ডাটা ট্রান্সফার হবে সেই ডিভাইসে যদি Receiver সিস্টেম না থাকে তাহলে ডাটা কোনও ভাবেই পাবে না।

তাই এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা Receive করার জন্য Receiver অপশন নেটওয়ার্ক সিস্টেমে ব্যাবহার করা হয়।

Message - নেটওয়ার্ক যেভাবে তৈরি হয়

এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যে ইনফরমেশন পাঠাবেন সেই তথ্যটাকে Message বলে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে যা সেন্ড করবেন তাই Message অথবা যা রিসিভ করবেন তাই Message.

Message ব্যতীত কোন কিছুই সেন্ড এবং রিসিভ করা যায় না। Message এর টাইপ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন: টেক্সট, ইমেজ, অডিও, ভিডিও, PDF ইত্যাদি।

Protocol - নেটওয়ার্ক যেভাবে তৈরি হয়

এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা ট্র্যান্সফারের মাধ্যমকে Protocol বলা হয়। অর্থাৎ এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা কিভাবে ট্রান্সফার হবে? দুটি ডিভাইসের মধ্যে যদি সম্পর্কই না থাকে তাহলে তো ডাটা ট্রান্সফার হবে না। তাই সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজন Protocol.

সহজ ভাষায়, দুটি ডিভাইসে ডাটা ট্রান্সফারের জন্য সে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়, সেটাকেই বলা হয় Protocol.

Transition media - নেটওয়ার্ক যেভাবে তৈরি হয়

দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডাটা স্থানান্তর হওয়ার মাধ্যমকে বলা হয় Transition media. দুটি devise এর মধ্যে ডাটা ট্র্যান্সফার হওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি মাধ্যম। সেটা হতে পারে Optical fiber কিংবা wires.

Optical fiber, wires, radio waves, cables, twisted pair cable ইত্যাদি ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে কাজ করে। এগুলোর মধ্যে ডাটা স্থানান্তর হয়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার করা হয় wires এবং wireless মাধ্যমকে। 

এই পর্যন্ত নেটওয়ার্ক কি, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, নেটওয়ার্ক কিভাবে তৈরি হয় এই বিষয় গুলো সম্পর্কে জেনেছেন। এখন আলোচনা করব কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কত প্রকার ও কি কি এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গুলো সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম যেখানে অনেক গুলো কম্পিউটার এবং কম্পিউটিং কাজে জড়িত (প্রিন্টার, স্ক্যানার) ডিভাইস একসাথে যুক্ত হয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করার ফলে বিভিন্ন ধরনের তথ্য এবং রিসোর্স শেয়ার করা যায়।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কত প্রকার

মালিকানার ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হচ্ছে ২ প্রকার। এই ২ ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নিয়েই নেটওয়ার্কের পরিধি। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গুলো হচ্ছে

  1. Private Network (প্রাইভেট নেটওয়ার্ক)
  2. Public Network (পাবলিক নেটওয়ার্ক)

প্রাইভেট নেটওয়ার্ক

প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস স্পেস ব্যাবহার করে যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় থাকে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বলে। প্রাইভেট নেটওয়ার্কে আইপি অ্যাড্রেসকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে এই ধরনের আইপি অ্যাড্রেস ব্যাবহার হয়ে থাকে।

পাবলিক নেটওয়ার্ক

পাবলিক নেটওয়ার্ক হচ্ছে উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক, যা সকলের ব্যাবহার গম্য হয়ে থাকে। পাবলিক নেটওয়ার্ক IPv4 ও IPv6 আইপি অ্যাড্রেস দ্বারা গঠিত থাকার কারণে সবাই পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করতে পারে। পাবলিক নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক হওয়ার ফলে ব্যাবহার কারীর তথ্যের ঝুঁকি থাকে। পাবলিক নেটওয়ার্ককে আবার দুই ভাবে ভাগ করা যায়। 

  1. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Per-to-Per Network)
  2. ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client Server Network)

পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক

যে নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ার করার ক্ষেত্রে সমান ভূমিকা পালন করে সেই নেটওয়ার্ককে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক বলা হয়। যদি ১০ টি কম্পিউটারে ১টি প্রিন্টার যুক্ত থাকে তাহলে সকল কম্পিউটার প্রিন্টিং এঁর জন্য একই সুবিধা পাওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক

যে সকল নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয় একটি সার্ভার কম্পিউটার থাকে সেই নেটওয়ার্ক পদ্ধতিকে ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক বলে। সার্ভার কম্পিউটারে সকল কম্পিউটার যুক্ত থাকে। সার্ভার কম্পিউটার যে রিসোর্স শেয়ার করবে সেগুলোই তাদের ব্যাবহার করতে হবে। তবে সার্ভার কম্পিউটারে কোন কিছু শেয়ার করা যায় না।

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ৪ ভাগে বিভক্ত।

  1. PAN (Personal Area Network)
  2. LAN (Local Area Network)
  3. MAN (Metropolitan Area Network)
  4. WAN (Wide Area Network)

পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)

পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network) হচ্ছে স্বল্প পরিধি নিয়ে সীমাবদ্ধ একটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম। কোনও ডিভাইসে ১০ মিটার রেঞ্জের মধ্যে কানেক্টিভটি থাকলে সেই নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলা যায়। ওয়্যারলেস সংশ্লিষ্ট ডিভাইস গুলো পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এ অন্তর্ভুক্ত। 

পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত ওয়্যারলেস ডিভাইস গুলো নিচে দেওয়া হল।

  • কম্পিউটার
  • মোবাইল
  • রিমোট
  • মাউস
  • কীবোর্ড

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network) হচ্ছে স্থানীয় অঞ্চলের নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বিল্ডিং, বাসা, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি স্থানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এ মিনিমাম ২ টি ডিভাইস কানেক্ট না করতে পারলে তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) বলা যাবে না। 

লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের ডাটা ট্রান্সমিশন গতি ১০ mbps থেকে ১০ gbps পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পরিধি ১০০ মিটার থেকে কয়েক শত মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)

একটি শহরের এরিয়া জোড়ে যে নেটওয়ার্ক সিস্টেম কাজ করে থাকে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) বলে। অর্থাৎ যে নেটওয়ার্ক সিস্টেম এর মাধ্যমে শহরের মধ্যে সকল জায়গায় নেটওয়ার্ক প্রদান করতে পারে তাকে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বুঝায়।

ব্রডব্যান্ডের কথা যদি একটু চিন্তা করি তাহলে সেটা মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক আওতায় পড়বে। (MAN) নেটওয়ার্ক উচ্চ গতি সম্পূর্ণ হওয়ায় তথ্য আদান প্রদান করতে বেশি সময় লাগে না। 

মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক স্পিড ৩৪ mbps থেকে ১৫৫ mbps পর্যন্ত হয়ে থাকে। পরিধি হিসেবে ১০ কি. মি. থেকে ৩০ কি.মি. পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক(WAN)

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক হচ্ছে একটি টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক পদ্ধতি। (WAN) নেটওয়ার্ক ভৌগলিক ভাবে নেটওয়ার্ক প্রোভাইড করার সক্ষমতা রাখে। টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস যারা প্রদান করছে তারাই (WAN) নেটওয়ার্ক সিস্টেম প্রোভাইড করে থাকে।

ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে  ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক প্রোভাইড করার জন্য স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যাবহার করা হয়। নেটওয়ার্ক স্পিড ১২০০ bps থেকে ২৪ mbps পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সুইচিং কে ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক ৩ ধরনের হয়ে থাকে।

  1. সার্কিট সুইচ নেটওয়ার্ক
  2. ম্যাসেজ সুইচ নেটওয়ার্ক
  3. প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক

আবার নির্মাণের উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক আবার ২ খণ্ডে বিভক্ত:

  1. পয়েন্ট টু পয়েন্ট নেটওয়ার্ক
  2. ব্রডকাস্ট বা মাল্টি-পয়েন্ট নেটওয়ার্ক

নেটওয়ার্ক টপোলজি

নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত কম্পিউটার গুলো কিভাবে একটি অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে তার ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। প্রতিটি নেটওয়ার্ক কাঠামো এক থাকে না, স্থান বেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। 

বাসা বাড়িতে নেটওয়ার্কের যে কাঠামো থাকবে, অফিস আদালতে কিন্তু সেইম নেটওয়ার্ক কাঠামো থাকবে না। কাঠামোর উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক টপোলজি ৬ প্রকার হয়ে থাকে। নিচে এগুলো দেওয়া হল।

  1. Star topology - স্টার টপোলজি
  2. Bus topology - বাস টপোলজি
  3. Tree topology - ট্রি টপোলজি
  4. Ring topology - রিং টপোলজি
  5. Mess topology - মেশ টপোলজি
  6. Hybrid Topology - হাইব্রিড টপোলজি

৬ টি নেটওয়ার্ক টপোলজিকে কেন্দ্র করে সকল নেটওয়ার্ক লেআউট বা কাঠামো গঠন করা হয়।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যাবহার

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করার ফলে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে অনেক সময় সাপেক্ষিক করে তুলেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যোগাযোগ মাধ্যম। তাছাড়া কাজের মাধ্যমকেও অনেক সহজ করে দিয়েছে। নিচে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যাবহার গুলো তুলে ধরা হল:

  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ অন্তর্ভূত কম্পিউটার গুলো নেটওয়ার্কের আওতায় থাকার ফলে তারা একে অপরের ফাইল এক্সেস করতে সক্ষম হয়।
  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ যুক্ত কম্পিউটার গুলো একটি মাত্র প্রিন্টার দিয়ে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।
  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ অন্তর্ভূত কম্পিউটার গুলোর মধ্যে থেকে যে কোন একটি কম্পিউটারে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করলে সেটা অন্য কম্পিউটার গুলো ব্যাবহার করতে পারে।
  • এক ফাইল একাধিক কম্পিউটারে থাকার ফলে এক কম্পিউটার থেকে ফাইল মুছে গেলে অন্য কম্পিউটার থেকে সংগ্রহ করা যায়। 
  • কোন কম্পিউটারে কাজের চাপ অতিরিক্ত থাকার ফলে অন্য কম্পিউটারে তা বণ্টন করে সহজেই কাজটি করা যায়।
  • একাধিক কম্পিউটার থাকার ফলে যে কোন কাজ খুব দ্রুত এবং কম সময়ে করা যায়।
  • নেটওয়ার্কের আওতায় কম্পিউটার গুলোতে যে কোন জায়গা থেকে কাজ করা সম্ভব। নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে সারা বিশ্বের যে কোন স্থানে ঘরে বসে কাজ করা যায়।

শেষ কথা - কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

এই ব্লগের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক কি, নেটওয়ার্ক কত প্রকার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর ব্যাবহার, এই সকল বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনাদের সামনে তুলে ধরার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করবে। যদি উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

 ধন্যবাদ-সকলকে

Next Post