কম্পিউটার পরিচিতি - কম্পিউটার কি, কাকে বলে, কত প্রকার

কম্পিউটার শিক্ষা ফ্রি কোর্সের ১ম ক্লাসে আপনাকে স্বাগতম। আজকের ক্লাসে কম্পিউটার পরিচিতি, অর্থাৎ কম্পিউটার কি, কম্পিউটার কাকে বলে এবং কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে আলোচনা করব।

কম্পিউটার ব্যবহার করতে হলে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি জানা প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত জরুরী। কম্পিউটার সম্পর্কে যদি কেউ প্রশ্ন করে সেটার উত্তরই যদি না দিতে পারেন তাহলে কম্পিউটার জেনে লাভ কি? তাই কম্পিউটার শিক্ষা ফ্রি কোর্সের ১ম ক্লাসে কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট তথ্য গুলো সম্পর্কে বলব।

কম্পিউটার কি - কম্পিউটার পরিচিতি

কম্পিউটার কি - কম্পিউটার শব্দটি গ্রিক শব্দ compute শব্দ থেকে এসেছে। Compute শব্দের অর্থ হচ্ছে গণনা করা। অর্থাৎ কম্পিউটার হচ্ছে গণনা-কারী যন্ত্র। কম্পিউটার তৈরির প্রধান কারণ বা লক্ষ্য হচ্ছে গণনা করার কাজে ব্যবহার করা। যদিও আগে-কার দিনে কম্পিউটারের মধ্যমে শুধু গণনাই করা হত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে কম্পিউটার ব্যবহারের অনেক পরিবর্তন এসেছে।

কম্পিউটার পরিচিতি - কম্পিউটার কি, কাকে বলে, কত প্রকার

কম্পিউটার ইলেকট্রনিক যন্ত্র হওয়ার ফলে এর মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান, তথ্য প্রক্রিয়া-করণ, বিশ্লেষণ, ইনপুনট এবং আউটপুট সংশ্লিষ্ট কাজ গুলো করা যায়। কম্পিউটার এর মাধ্যমে জঠিল এবং কঠিন কাজ গুলোও খুব সহজেই সমাধ্যান করে নেওয়া যায়। কম্পিউটার সম্পর্কে যদি বলি তাহলে এর কাজের পরিধি বলে শেষ করা যাবে না। 

কম্পিউটার কাকে বলে - কম্পিউটার এর সংজ্ঞা

কম্পিউটার কি ইতিমধ্যেই তা জেনেছেন। কম্পিউটার কি এটা যদি বুঝতে পারেন তাহলে কম্পিউটারের সংজ্ঞা বা কম্পিউটার কাকে বলে তা বলার দরকার হয় না। তার পরেও যদি কম্পিউটারকে গুছিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে হয় তাহলে বলতে হবে এটাই যে,

কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা কতগুলো প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে ডাটা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ এবং সঠিক ফলাফল বা আউটপুট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করে থাকে।

কম্পিউটারের জনক - কম্পিউটার নামের পূর্ণরূপ

আমরা সকলেই কম্পিউটারের জনক হিসেবে চার্লস ব্যাবেজকে চিনে থাকি। কিন্তু প্রথম কম্পিউটার চার্লস ব্যাবেজ তৈরি করেন নি। ওয়ার্ড অ্যাইকনকে প্রথমে কম্পিউটার আবিস্কার করেছে। পরবর্তীতে সেটাকে নতুন ভার্সনে চার্লস ব্যাবেজ তৈরি করেন এবং চার্লস ব্যাবেজের তৈরিকৃত নিয়ম গুলোকে বাকীরা অনুসরণ করে। তাই আধুনিক কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজকে বলা হয় এবং ওয়ার্ড অ্যাইকনকে বলা হয় কম্পিউটারের জনক।

কম্পিউটার নামের পূর্ণরূপঃ Computer এর পূর্ণরূপ হলো Commonly Operated Machine Particularly Used for Technical Education and Research. যার অর্থ দাঁড়ায় সাধারণ ব্যবহার, কারিগরি শিক্ষা এবং গবেষণা করার জন্য এক বিশেষ মেশিন বা যন্ত্র।
অর্থাৎ C=Commonly, O=Operated , M=Machine, P=Particularly, U=Used, T=Technical, E=Education, R=Research

কম্পিউটার আবিষ্কার - কম্পিউটার প্রজন্ম

কম্পিউটার আবিষ্কারের পর থেকে প্রতিনিয়তই এর পরিবর্তন তথা আপডেট করার কাজ সব সময়য় চলমান ছিল। সময়ের সাথে কম্পিউটারে বিভিন্ন আপডেট প্রয়োগ করার ফলে উন্নতির বিকাশ ঘটে। যার ফলে কম্পিউটার সিস্টেম উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে। কম্পিউটারের একেকটি আপডেট এর সময়কালকে প্রজন্ম বলা হয়। নিচে কম্পিউটের প্রজন্ম গুলো উল্লেখ করা হলঃ
  1. প্রথম প্রজন্ম
  2. দ্বিতীয় প্রজন্ম
  3. তৃতীয় প্রজন্ম
  4. চতুর্থ প্রজন্ম
  5. পঞ্চম প্রজন্ম
প্রথম প্রজন্মঃ ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৯ সালের সময় কালকে কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্মের সময়কাল বলা হয়। প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো নিচে দেওয়া হলঃ
  • ইলেকট্রনিক বর্তনী ব্যবহার যা ভ্যাকুয়াম টিউববিশিষ্ট
  • স্টোরেজ হিসেবে চুম্বকীয় ড্রাম ব্যবহার
  • বৃহত্তম আকৃতির-যা বহন যোগ্য নয়
  • ধীর গতিতে সিস্টেম চলমান
  • ডাটা সংরক্ষণ ধারণ ক্ষমতা স্বল্প
দ্বিতীয় প্রজন্মঃ ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৪ সালের সময় কালকে কম্পিউটারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সময়কাল বলা হয়। নিচে দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য গুলো উল্লেখ করা হলঃ
  • ভ্যাকুয়াম টিউব এর স্থলে ট্রানজিস্টরের ব্যবহার
  • প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার থেকে উচ্চ গতি সম্পন্ন
  • আকৃতির সল্পতা বিরাজমান
  • নির্ভরযোগ্যতা তুলনা মুলক ভাবে বেশি
  • স্টোরেজ হিসেবে কোর ব্যবহার
তৃতীয় প্রজন্মঃ ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৪ সালের সময় কালকে কম্পিউটারের তৃতীয় প্রজন্মের সময় কাল বলা হয়। নিচে তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলঃ
  • আকারে ছোট
  • স্টোরেজ মেমোরি তুলনা মূলক উন্নত
  • বিদ্যুৎ খরচ এবং তাপ উৎপন্ন কম
  • নির্ভর এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পন্ন
  • প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের তুলনায় মূল্য কম
চতুর্থ প্রজন্মঃ ১৯৭৫ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে সময়কাল তাকে কম্পিউটারের চতুর্থ প্রজন্ম বলা হয়। এই প্রজন্মের কম্পিউটার গুলোতে মাইক্রো প্রসেসর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চতুর্থ প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য গুলো উল্লেখ করা হলঃ
  • প্রসেসর হিসেবে মাইক্রো প্রসেসর ব্যবহার
  • উচ্চ গতি সম্পন্ন
  • সকলের ব্যবহারের সামঞ্জস্যতা
  • আকারে অনেক ছোট
পঞ্চম প্রজন্মঃ চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলো পঞ্চম প্রজন্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলো পঞ্চম প্রজন্মে অনেক আপডেট করা হয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হয়েছে। নিচে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলঃ
  • শক্তিশালী এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন
  • স্টোরেজ সিস্টেম কোয়ালিটি সম্পন্ন
  • ডাটা ধারণ ক্ষমতা বেশি
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
  • কোয়ালিটি সম্পূর্ণ প্রসেসর এর ব্যবহার

কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য - কম্পিউটারের কার্যাবলী

কম্পিউটারের সবচেয়ে উল্লেখ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেগুলো কম্পিউটারের কার্যক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে কম্পিউটার তার সকল কার্যক্রম করে থাকে। আর এই প্রোগ্রামিং মানুষের মাধ্যমেই করা হয়েছিল। অথচ কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য গুলোর সাথে একজন মানুষের তুলনা করা স্বপ্ন মাত্র, তাছাড়া কিছুই না। বিষয়টা কি অদ্ভুত! তাই না?
  1. দ্রুততার সাথে কাজ করা
  2. নির্ভুলতার সহীত কাজ করা
  3. স্মৃতিতে অটল থাকা
  4. ক্লান্তিহীনতা
দ্রুত গতিতে কাজ করাঃ কম্পিউটার কাজের গতিকে যদি মানুষের কাজের গতির সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে সেটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁসা থেকেও ভয়ংকর। অথচ কম্পিউটার মানুষ তৈরি করেছে। কিন্তু কম্পিউটারের সাথে কাজের দ্রুততার সাথে মানুষ কোন তুলনাই করতে পারবে না।

নির্ভুল ভাবে কাজ করাঃ কম্পিউটারের সবচেয়ে একটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হচ্ছে এটি নির্ভুল ভাবে সকল কাজ করে থাকে। ব্যবহার কারী যা ইনপুট করবে তার সঠিক উত্তর এবং যদি ভুল তথ্য ইনপুট করে থাহলে থাকে এলার্ট দিয়ে থাকে।

স্মৃতিতে অটল থাকাঃ কম্পিউটারের স্টোরেজ সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্যত্র ব্যবহার যোগ্য অপশন হচ্ছে স্মৃতির ধারণ ক্ষমতা। ব্যবহার কারী যা ইনপুট করবে এবং যা সংরক্ষণ করে রাখবে সেটা আজীবন এর জন্য সংরক্ষিত থেকে যায়।

ক্লান্তিহীনতাঃ পৃথিবীতে যত প্রাণী রয়েছে তারা কোন কাজ করার পর একটা সময় ক্লান্তি, অবসাদ আসবেই। অথচ কম্পিউটার নাম যন্ত্রটির ক্লান্তি, অবসাদ নামের কোন অপশনই নেই। ক্লান্তিহীনতার মাঝে কম্পিউটারের সকল কাজ বিরাজমান।

কম্পিউটার কত প্রকার - কম্পিউটারের প্রকারভেদ

গঠনপ্রণালী, বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার ৩ প্রকার হয়ে থাকে।
  1. এনালগ কম্পিউটার
  2. ডিজিটাল কম্পিউটার
  3. হাইব্রিড কম্পিউটার
এনালগ কম্পিউটারঃ পরিমাপ করার মাধ্যমই হচ্ছে এনালগ কম্পিউটার। অর্থাৎ যে কম্পিউটারের মাধ্যমে কোন কিছুর মান পরিমাপ করা যায় তাকে এনালগ কম্পিউটার বলে। যেমন বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ পরিমাপ করা, উচ্চতা, গভীরতা, তাপমাত্রা পরিমাপ করা ইত্যাদি। যদিও এর আরো অনেক কাজ রয়েছে। সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য এভাবেই সংজ্ঞায়িত করলাম।

হাইব্রিড কম্পিউটারঃ এনালগ কম্পিউটার এবং ডিজিটাল কম্পিউটার এর বৈশিষ্ট্য গুলো হাইব্রিড কম্পিউটার এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ হাইব্রিড কম্পিউটার এনালগ এবং ডিজিটাল কম্পিউটার এর সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ হাইব্রিড কম্পিউটারে ইনপুট ব্যবস্থা সরবরাহ করে এনালগ পদ্ধতিতে এবং ফলাফল প্রকাশ করে ডিজিটাল কম্পিউটার এর ন্যায়। হাইব্রিড কম্পিউটারের গঠন পক্রিয়া জঠিল প্রকৃতির হওয়ায় বিশেষ কাজে এটা ব্যবহার করা হয়। যেমন মহাকাশ গবেষণা।

ডিজিটাল কম্পিউটারঃ আমরা প্রতিনিয়তই যে কম্পিউটার গুলো ব্যবহার করি সেগুলোকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলা হয়। ডিজিটাল কম্পিউটার গুলো বাইনারি ডিজিট এর মাধ্যমে সকল কাজ করে থাকে। আমরা কম্পিউটারে যা ইনপুট করি তা কিন্তু কম্পিউটার বুঝতে পারে না। ইনপুট কৃত ডাটা বাইনারিতে কনভার্ট হয়। তারপর কম্পিউটার বুঝতে পারে এবং সকল কাজ সম্পাদন করে থাকে। বাইনারি সংখ্যা ২ ডিজিট এর হয়ে থাকে। ১ এবং ০ নিয়েই এর সকল কার্যক্রম।

ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার ৪ টি বিভক্ত রয়েছে। যেগুলো ডিজিটাল কম্পিউটার এর কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলঃ
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইন ফ্রেম কম্পিউটার
  3. মিনি কম্পিউটার
  4. মাইক্রো কম্পিউটার
সুপার কম্পিউটারঃ শক্তিশালী, উচ্চ গতি সম্পূর্ণ অর্থাৎ সুপার ফাস্ট কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার। সুপার কম্পিউটার যেহেতু শক্তিশালী এবং কাজ করার গতি অনেক বেশি তাই এর মাধ্যমে জঠিল কাজ গুলো করা হয়ে থাকে। গবেষণা, মহাকাশযান ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া আরো অনেক কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

মেইন ফ্রেম কম্পিউটারঃ শক্তিশালী, উচ্চ গতি সম্পন্ন কম্পিউটার হিসেবে মাইন ফ্রেম কম্পিউটার দ্বিতীয়তে রয়েছে। অনেক বড় বড় ডেটা ফাইল প্রসেসিং খুব সহজেই মেইন ফ্রেম কম্পিউটার দিয়ে করা যায়। একটি টার্মিনাল এর মধ্যে হাজার ব্যবহার কারী তা ব্যবহার করতে পারে। ব্যাংকিং সিস্টেম, শিল্প প্রতিষ্টানে মেইন ফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

মিনি কম্পিউটারঃ মিনি কম্পিউটার নামটা শুনতেই ছোট ছোট লাগছে। আপনারা কি বলেন? হ্যাঁ! মিনি কম্পিউটার সবথেকে ছোট কম্পিউটারের লেভেল থেকে উপরের লেভেল এ বিদ্যমান। মিনি কম্পিউটারে একটি টার্মিনাল এর মধ্যে ৫০ জন ব্যবহার কারী তা ব্যবহার করতে পারে।

মাইক্রো কম্পিউটারঃ সব থেকে ছোট কম্পিউটার হিসেবে মাইক্রো কম্পিউটার প্রথমে রয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত যে কম্পিউটার গুলো ব্যবহার করছি সেগুলো মাইক্রো কম্পিউটার এর অন্তর্ভুক্ত। মাইক্রো কম্পিউটারকে আবার পার্সোনাল কম্পিউটারও বলা হয়। মাইক্রো কম্পিউটার আবার ২ ভাগে বিভক্ত। 
  1. ডেস্কটপ কম্পিউটার
  2. ল্যাপটপ কম্পিউটার
ডেস্কটপ কম্পিউটারঃ ডেক্সটপ কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যেখানে মনিটর, কীবোর্ড, মাউস, স্পিকার এবং পিসি সবকিছু আলাদা আলাদা ভাবে বিদ্যমান থাকে। সবকিছু আলাদা ভাবে ক্রয় করে সেটআপ করে নিতে হয়। আমরা প্রতিনিয়ত যে কম্পিউটার গুলো ব্যবহার করি সেগুলোই হচ্ছে ডেক্সটপ কম্পিউটার।

ডেক্সটপ কম্পিউটার আপনি আপনার সাথে নিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ হার্ডওয়্যার ডিভাইস গুলো আলাদা হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে সেটআপ করে নিতে হয়। তবে ডেক্সটপ কম্পিউটার এর একটি বড় অসুবিধা হচ্ছে যদি কারেন্ট চলে যায় তাহলে সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাবে। যার ফলে কোনও গুরুত্ব পূর্ণ কাজ করতে থাকা অবস্থায় কারেন্ট চলে গেলে সম্পূর্ণ কাজের ফাইল হারাতে হয়। এর জন্য ডেক্সটপ কম্পিউটার ব্যবহার করতে চাইলে আইপি এস ব্যবহার করা উত্তম।

ল্যাপটপ কম্পিউটারঃ ডেক্সটপ কম্পিউটার এর বিপরীত অংশে রয়েছে ল্যাপটপ কম্পিউটার। আমরা সচারচর যে ল্যাপটপ গুলো ব্যবহার করি সেগুলোকে ল্যাপটপ কম্পিউটার বলা হয়। ল্যাপটপ কম্পিউটারে মনিটর এর পরিবর্তে ডিসপ্লে, মাউস এর পরিবর্তে মাউস প্যাড ব্যবহার করা হয়।

তাছাড়া কীবোর্ড, স্পীকার এবং একটি পিসি তৈরি করতে যা যা লাগে তার সবকিছুই একসাথে ম্যানুফেকচার করা থাকে। যার ফলে ল্যাপটপ আপনি যে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন। তবে ল্যাপটপ এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর সাথে ব্যাটারি সংযুক্ত থাকার কারণে কারেন্ট চলে গেলে সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় না। যার ফলে কোন গুরুত্ব পূর্ণ প্রজেক্ট করা অবস্থায় কারেন্ট চলে গেলে সেটা ডিলিট হওয়ার কোন চান্স থাকে না।

সারমর্মঃ কম্পিউটার শিক্ষা ফ্রি কোর্সের ১ম ক্লাসে কম্পিউটার কি, কম্পিউটার কাকে বলে,  কম্পিউটারের জনক , কম্পিউটার নামের পূর্ণরূপ, কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য, কম্পিউটারের কার্যাবলী, কম্পিউটার কত প্রকার অর্থাৎ মোট কথা কম্পিউটার পরিচিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি কম্পিউটার পরিচিতি নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। যদি থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
Next Post Previous Post